বুধবার । ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ । ৩০শে পৌষ, ১৪৩২

খুলনা-২ ও ৪ আসনে সমর্থন ও গণভোটে সিদ্ধান্তহীনতায় গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাম ঘরানার নির্বাচনী জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট এবারের নির্বাচনে খুব একটা শক্তিশালী অবস্থানে নেই। খুলনা-২ ও ৪ আসনে এ জোট প্রার্থী দিতে পারেনি। নির্বাচন ও গণভোটের আর এক মাসেরও কম সময় বাকী। ফ্রন্টের শরিক নয়টি দলের কর্মীরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। জাতীয় নির্বাচনে ভোটদান ও গণভোট প্রশ্নে এখনও সিদ্ধান্ত নেই তাদের। জুলাই সনদে এ ফ্রন্টের শরিক দলগুলো স্বাক্ষর করেনি।

ত্রয়োদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে গড়ে ওঠে যুক্তফ্রন্ট। মব, আইনশৃঙ্খলা ও জুলাই সনদের স্বাক্ষর নিয়ে তারা একমত ছিলেন। নির্বাচনী তফসীল ঘোষণা করার আগে থেকে খুলনার এ আসনে প্রার্থী ছিলেন সিপিবি’র তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। জাতীয় কংগ্রেসের পর দলে তার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধির সমর্থন না থাকায় তিনি স্বপদে প্রত্যাবর্তন করতে পারেননি। এরপরে এ আসনের প্রার্থী তালিকায় সদর থানার সভাপতির নাম আসে। তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেননি। শরিক দলের মধ্যে সিপিবি ও বাসদ ছাড়া অন্যকোনো সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব নেই, এবারের নির্বাচনে।

যুক্তফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী খুলনা-১ আসনে সিপিবি’র কিশোর কুমার রায়, খুলনা-৫ আসনে এ্যাড. চিত্ত রঞ্জন গোলদার, খুলনা-৬ আসনে প্রশান্ত কুমার মন্ডল ও খুলনা-৩ আসনে বাসদের জনাদ্দন দত্ত নান্টু প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। খুলনা-২ ও ৪ আসনে এ জোটের প্রার্থী নেই। খুলনা-১ ও ৩ আসনে প্রার্থীরা কমবেশি সক্রিয়। তারা জোটের ২১ দফা নির্বাচনের ইশতাহার নিয়ে ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী মাঠে নামবে।

নির্বাচনী ইশতাহারে যুদ্ধাপরাধী, ২৪-এর গণহত্যার বিচারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়নি। দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্ট ও বন্ধ পাটকল চালুর ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য নেই। সংস্কার নিয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে কোনো কথা নেই। সুন্দরবন ও রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিষয়ে পূর্বে অবস্থান থেকে সোচ্চার আছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বন এলাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠান নির্মাণ বন্ধ ও সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। ফ্রন্টের এক প্রচারপত্রে বলা হয় সংবিধান হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজস্ব মত চাপিয়ে দিয়ে জুলাই সনদের নামে মুক্তিযোদ্ধার অপব্যবহার অবস্থান নিয়ে চলেছে। দেশের সুখ শান্তি আনতে দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে দূরে থাকার প্রসঙ্গ নিয়ে জেলা সিপিবি’র সভাপতি এস এ রশিদ বলেছেন, এ আসনে প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়নি। শরিক দলের নেতাকর্মীদের এ আসনে ভোটদান এবং গণভোটে অংশ নেওয়া সম্পর্কে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন